প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় ঈদগাহসহ মহানগরীর প্রায় এক হাজার ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এসব জামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বুধবার (২৭ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঈদের দিন রাজধানীতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে- বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ এলাকায়। একই সময়ে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের জন্য পাঁচটি প্রবেশদ্বার রাখা হয়েছে- এর মধ্যে চারটি পুরুষ ও একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঈদগাহকে ঘিরে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) সুইপিং টিম ও সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঈদগাহের প্রবেশপথগুলোতে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হবে ড্রোন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে সক্রিয় থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে হারানো বা প্রাপ্ত সামগ্রীর তথ্য সংরক্ষণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
ঢাকার অন্যান্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট থানা ও ক্রাইম বিভাগগুলোকে আয়োজক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো জামাতই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। গাড়িতে আগত মুসল্লিদের নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশের অনুরোধ জানান তিনি।
মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি কেবল জায়নামাজ ও প্রয়োজনীয় হলে ছাতা সঙ্গে আনার পরামর্শ দেন। ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু বহন না করার আহ্বান জানিয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেন।
এছাড়া ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রতিরোধে সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাধারা/এসআর
মন্তব্য করুন