বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ১০:৩০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বরিশাল সফর, বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে গিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান। একদিনের সরকারি সফরে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের তীরে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৬টায় রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম বরিশাল সফর, যা ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

সফরের শুরুতেই গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম শুরু হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

একই অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার পাশাপাশি কর্মসূচির কার্যকারিতা সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি। শেষ মুহূর্তে এ মতবিনিময় পর্বটি সফরসূচিতে যুক্ত করা হয়।

এরপর বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি নিজ হাতে জিআই স্বীকৃত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা রোপণ করবেন। পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ লাগানোর কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।

সফরের দ্বিতীয়ার্ধে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতারা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দলীয়ভাবে কোনো তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে শৃঙ্খলাবদ্ধ মানবপ্রাচীর গড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সব কর্মসূচি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা হয়েছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা, যান চলাচল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সার্বিক সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কর্মসূচিতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে বরিশালের অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন