বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১২:৫১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা, পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে

ছবি: সংগৃহিত

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক। সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগমের সন্তান।
এর আগে গতকাল বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত চাচি লতা বেগমের (৩২) স্বামীসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ ও শ্বশুর আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি পলাতক রয়েছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন। তারা কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজসেবা অফিসার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। তারা এক্সরে করে মতামত দেবে। তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছাড়িয়েছে। ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অৎঃরভরপরধষ ওহঃবষষরমবহপব) দিয়ে বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিল শিশুটির পরিবার। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। 
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ৩ মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মায়ের গোপনে রেখে যাওয়া মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ হয়ে যায়। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাধারা/ডেক্স

মন্তব্য করুন