প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই লড়াই করে আবারও ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। কঠিন এক সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উঠল আলবিসেলেস্তেরা। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল বেশ সতর্ক। মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় গোলের তেমন পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে রাখলেও গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের অসাধারণ কয়েকটি সেভ দীর্ঘ সময় দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে।
তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিরাম চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সমতাসূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। সেই গোলেই নতুন প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা।
সমতায় ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২) বদলি খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছাড়িয়ে নায়ক হয়ে ওঠেন লাউতারো মার্তিনেজ। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোল করে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে দেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।
পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা এবং সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও থমাস টুখেলের দলের রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরেক ইউরোপীয় শক্তি স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল স্প্যানিশরা। ফলে ২০ জুলাইয়ের ফাইনালে বিশ্বকাপের মুকুটের জন্য মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন