বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০৩:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন হামলায় ইরানের পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত, ২০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিসংকটে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় পুরো এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামজেহ পুর বলেন, জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামের একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনীর হামলায় সমুদ্রের পানি উত্তোলনকারী পাম্পিং স্টেশন এবং পানি শোধনাগারের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তার দাবি, এর ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসকারী ২০টি গ্রামের সুপেয় পানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র পানিসংকটের মুখে পড়েছেন।

হামজেহ পুর এ ঘটনাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।

অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশেও। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লাগে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।

তবে এসব পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় টানা সাত রাত ধরে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান আর শুধু পাল্টা জবাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

শুক্রবার রাতের হামলার পর দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে এবং সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন