বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ০৮:৩৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

ইরানে টানা ১১তম দিনের মার্কিন হামলা, তেহরানজুড়ে বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১১তম দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ হামলায় রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একাধিক এলাকায় পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নতুন এ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম **আল জাজিরা** প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি আরও দুর্বল করতেই একাদশ দিনের মতো এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ সংরক্ষণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরানজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম **তাসনিম নিউজ এজেন্সি** জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। একই সময়ে **ফার্স নিউজ** জানায়, দক্ষিণ ইরানের সিরিক অঞ্চলের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকাও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে হামলাটি চালানো হয়। তবে হামলাটি শহরের বাইরে একটি সামরিক এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাবরিজ নগরীতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় **৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার** ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অতিরিক্ত **৯০ বিলিয়ন ডলার** বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তার এ বক্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খুব শিগগিরই এবং "খুব জোরালোভাবে" **পিক্যাক্স মাউন্টেন** নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছেন।

এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা সামরিক অভিযানের মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সূত্র: আল জাজিরা

 


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন