বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৫:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, ৮ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত ‘ক্রসফায়ারে’ একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং অপর তিনজনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। শুনানিতে তিনি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করে তা আমলে নেওয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার আসামিরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।

তাদের মধ্যে অন্য মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন আবদুর রহমান বদি, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম। এ কারণে ট্রাইব্যুনাল তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি আটজনের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। ঘটনার পর তার মেয়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছ যে...’-এই অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ঘটনাটি জাতীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন