প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনের ভিত্তি হিসেবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দাবি করা হয়, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও এ ধরনের কণা শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গবেষকদের ভাষ্য, টুথপেস্টে কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। এ ধরনের প্লাস্টিক কণা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ, উভয়ের জন্যই সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার ২২টিতে, ভারতের পাঁচটির একটিতে, থাইল্যান্ডের দুইটির একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুইটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেল’ টুথপেস্টে, যেখানে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ক্লোজআপ, সিগন্যাল, পেপসোডেন্ট, হিমালয়া, সেনসোডাইন, মেরিল, কোডোমো ও মেসওয়াকসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একাধিক পণ্যে ভিন্নমাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি, কোডোমো (অরেঞ্জ) এবং কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট, এই আটটি টুথপেস্টের নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রিটকারী।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন