বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০১:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

না ফেরার দেশে মিলান ও ইতালির কিংবদন্তি বারেসি

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এসি মিলান ও ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ইতালিয়ান ফুটবলের এই অন্যতম সেরা তারকা।

১৯৬০ সালের ৮ মে ইতালির ত্রাভাগলিয়াতোতে জন্ম নেওয়া বারেসি প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। ফুসফুসের একটি পিণ্ড অপসারণের পর থেকেই অনেকটা আড়ালে ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ। শেষ পর্যন্ত মিলানের উপশহরের হিউম্যানিটিস দি রোজ্জানো ক্লিনিকে তার জীবনাবসান ঘটে।

বারেসিকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের আগে সান সিরোতে অলিম্পিক মশাল বহন করেছিলেন তিনি। এর আগে মিলানের সম্মানসূচক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও নির্বাচিত হন এই কিংবদন্তি।

ফুটবল ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই মিলানের জার্সিতে কাটিয়েছেন বারেসি। ১৯৭৭ সালে ক্লাবটির হয়ে অভিষেকের পর টানা দুই দশক, অর্থাৎ ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা। ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ এই পথচলায় নিজেকে শুধু সফল ডিফেন্ডার নয়, একজন আদর্শ অধিনায়ক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

আরিগো সাচ্চির ঐতিহাসিক মিলান দল থেকে শুরু করে ফাবিও ক্যাপেলোর অধীনে দাপুটে দল—দুই যুগেই বারেসি ছিলেন রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ। তার নেতৃত্বে মিলান জিতেছে তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ ও দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরের পর ৬ নম্বর জার্সিটি আর কোনো খেলোয়াড়কে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব।

১৯৯৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানানোর আগে মিলানের হয়ে দুই দশকে নিজেকে ক্লাবটির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিলেন বারেসি। তার নেতৃত্ব, ট্যাকলিং, পজিশনিং ও খেলা পড়ার অসাধারণ দক্ষতা তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আইকনিক ডিফেন্ডারের মর্যাদা এনে দেয়।

জাতীয় দলেও ছিল তার বর্ণিল অধ্যায়। ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইতালির শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন বারেসি। এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালি তৃতীয় এবং ১৯৯৪ সালে রানার্সআপ হলে দুই দলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন, তৃতীয় ও রানার্সআপ তিন ধরনের ফলাফলের স্বাদ পাওয়া বিরল ফুটবলারদের একজন ছিলেন বারেসি। ইতালির হয়ে তার এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তাকে দেশের ফুটবল ইতিহাসেও বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যায়।

মিলান ও ইতালির হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া বারেসি অবসরের পরও ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মাঠের সেই দুর্দান্ত অধিনায়ক আর কখনো ফিরবেন না। তার মৃত্যুতে শুধু এসি মিলান বা ইতালি নয়, শোকাহত পুরো ফুটবল বিশ্ব।

ফ্রাঙ্কো বারেসি নেই, কিন্তু তার নেতৃত্ব, রক্ষণশৈলী ও ফুটবলীয় উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবে। মিলানের ইতিহাসে এবং বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিদের তালিকায় তার নাম লেখা থাকবে চিরকাল।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন