বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটির বাজারে প্রবেশের সুযোগ : ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তারা দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের বিশাল আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ মানেই ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার একটি বৃহৎ আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ শুধু একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যে একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জাপানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

জাপানের উন্নয়নের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেইজি পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেশটি যে রূপান্তরের উদাহরণ তৈরি করেছে, তা অনুকরণীয়। বাংলাদেশও জাপানের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বর্তমানে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে ছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, দেশের ৭ কোটিরও বেশি তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী কয়েক বছরে এই বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের।

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতের কথাও তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, শিল্প উপাদান, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রোবটিকস, শিক্ষা প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও জাপানি বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, জেট্রো ও ওসাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জাপানের হাউস অব কাউন্সিলরসের সদস্য ফুতোশি ওকাজাকি, সাইফার-কোর কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোটোইউকি ওদাচিসহ জাপানের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও শিল্পোদ্যোক্তা অংশ নেন।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন