বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের হুমকির মধ্যে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প, গোপনে সামরিক বিমানে ওঠার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই গত মাসে তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে বিমানবন্দরের অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি ছোট সামরিক বিমান সি-৩২এ-তে করে তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প তুরস্কে গিয়েছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া সদ্য সংস্কার করা একটি বিশেষায়িত জেটে। নতুন বিমানটির আন্তর্জাতিক পরিসরে সেটিই ছিল প্রথম যাত্রা। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্পকে ওই বিমান ব্যবহার না করে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কে অবস্থানের সময় দেশটির পার্শ্ববর্তী ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও উত্তেজনা তীব্র ছিল। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর তাকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপনে অন্য একটি স্থানে নেওয়া হয়।

এরপর মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-৩২এ বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। বিমানটি রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায়। এর কয়েক মিনিট পর সেখানে পৌঁছায় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং ট্রাম্পের সফরসঙ্গী গণমাধ্যমকর্মীরা।

তবে এ ঘটনার আগে ট্রাম্প নিজেই পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণের জন্য’ হালকা নীল রঙের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করে আঙ্কারা থেকে আরএএফ মিলডেনহলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে নতুন বিমানটিও সেখানে থাকবে এবং মার্কিন সেনাসদস্যদের সেটি ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে তৃতীয় একটি বিমানে ট্রাম্পের গোপন যাত্রার বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন ওঠে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউংয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের দেওয়া জেটটিতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। ট্রাম্পের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করার মতো অনেক শত্রু রয়েছে এবং এসব হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সফরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের চলাচল সাধারণত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে হলেও প্রকাশ্যে এক বিমান ব্যবহার করে গোপনে অন্য বিমানে স্থানান্তরের ঘটনা নিরাপত্তা পরিকল্পনার অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ঠিক কী কারণে ট্রাম্পকে প্রকাশ্য বিমান থেকে সরিয়ে গোপনে অন্য সামরিক বিমানে নেওয়া হয়েছিল, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেনি মার্কিন প্রশাসন।

তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন কতটা সতর্ক ছিল। একই সঙ্গে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন