প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আগামী ১০ বছরের জন্য একটি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনেই এ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়ে গেছে। এখন দেশের মানুষ সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের কষ্টে দেশের মানুষ যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার দ্রুত কাজ করছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেখানেই আগামী ১০ বছরে দেশের মানুষের জ্বালানি সমস্যার কীভাবে সমাধান করা হবে, তার একটি পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগের সরকার তৃতীয় এলএনজি জাহাজ আনার অনুমতি বাতিল করে দিয়েছিল। এখন নতুন করে সেই অনুমোদন ও ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় এলএনজি জাহাজটি দেশে পৌঁছালে গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে। তবে জাহাজ প্রস্তুত ও দেশে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ জন্য জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
‘সামনে হারিকেন, পেছনে ফ্যান’
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি দেখেছেন, একটি দলের কিছু নেতা-কর্মী গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে সামনে হারিকেন নিয়ে বসেছেন, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছিল।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘হঠকারিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যদি বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের সমাধান করতে পারে, তাহলে তা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার্যকর কোনো পরিকল্পনা পাওয়া গেলে সরকার সেটিই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তবে শুধুই জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আন্দোলন বা বক্তব্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটিতে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
এসব হাসপাতালে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বড় শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘১৭ বছর রাজপথে ছিল বিএনপি’
বিএনপির দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছেন। তার দাবি, ওই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা সংবাদপত্রের পাতায় উঠে এসেছে।
বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাস্তায় বসে ভাঙচুর কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরির রাজনীতি এখন আর জনগণ সমর্থন করে না। জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে শুধু সমালোচনা না করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখাই এখন রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন