বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:১৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যুবককে কুপিয়ে জখম

ছবি; সংগৃহিত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মো. মহিউদ্দিন (৩৬) নামে এক সামাজিক সংগঠককে ধারালো অস্তু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত মাদক কারবারির বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। এতে গোয়ালঘরে থাকা একটি গবাদিপশু পুড়ে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মাস্টারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
গুরুতর আহত মহিউদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি শিকলবাহার আহছানিয়া পাড়ায় সম্প্রতি গঠিত মাদকবিরোধী এক সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কিছুদিন আগে আহছানিয়া পাড়ায় একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন স্থানীয় যুবকেরা। ওই সংগঠনের মাধ্যমে এলাকায় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেন মহিউদ্দিন। এরপর থেকেই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মুজিবুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে মহিউদ্দিনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে ইতঃপূর্বেও তাদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মাস্টারহাট এলাকায় মহিউদ্দিনের সঙ্গে মুজিবুর রহমানের প্রধান সহযোগী ইব্রাহিমের কথা-কাটাকাটি হয়। তর্কের একপর্যায়ে ইব্রাহিম ধারালো দা বের করে মহিউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে জখমের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিছিল নিয়ে মুজিবুর রহমানের ভাড়া বাসায় হামলা চালায়। উত্তেজিত জনতা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে গোয়ালঘরে আটকা পড়ে একটি গবাদিপশু পুড়ে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় দুই মাস জেল খাটার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি ফের পুরোনো মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মুজিবুর রহমানের অনুসারী ইব্রাহিমের সঙ্গে মহিউদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। সেসময় অভিযুক্ত ইব্রাহিম আহত মহিউদ্দিনের উপর প্রতিশোধ নেবে বলে হুমকি প্রদান করে। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে চায়ের দোকান থেকে ইব্রাহিম ধারালো অস্ত্র (দা জাতীয়) দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন