বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ আগষ্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল শুনানি চলছে

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি চলছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যু হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০০৫ সালে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হিসেবে হাইকোর্টে যায়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। এতে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। সাতজনের সাজা কমিয়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন করা হয়। একই সঙ্গে ১১ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন- নূরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু ৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন টিপু ও নূরুল আমিন।

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন—মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনু।

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া। পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয় মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীরকে।

হাইকোর্টের রায়ের পর দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন। সেই আপিলের ধারাবাহিকতায় এখন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি চলছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন