প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১০:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এটি টানা দশম রাতের অভিযান, যেখানে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে নিহত মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর জন্য ইরানকে দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প জানান, জর্ডান ও ইরাকে নিহত তিন মার্কিন সেনার স্মরণে আগের রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনায় ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলার দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য, বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ মোকাবিলা করছে।
তবে সংঘাত তীব্র হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। হামলার সময় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
একই দিনে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীও দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন তাদের আকাশপথের নেভিগেশন ব্যবস্থা লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে এতে বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ট্যাংকার দুটি প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলের একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ’ ব্যবহার করছিল এবং বিস্ফোরণের পর সেগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, ট্যাংকার বিস্ফোরণের দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন