বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ০২:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে ইরানি হামলা, টানা তৃতীয় রাতেও উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার আরও স্পষ্টভাবে পড়েছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে। ইরানের ছোড়া ড্রোন হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর উভয় স্থাপনাতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাতের এ হামলা নিয়ে টানা তৃতীয় রাত কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হলো। এর আগে শনিবার একটি তেল ডিপোতে এবং শুক্রবার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলার ঘটনা ঘটে।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানি ড্রোনের আঘাতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে আগুনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক জেনারেটর ইউনিট পুড়ে গেছে। গত তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা।

এদিকে একই রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামার আশপাশের এলাকাগুলো লক্ষ্য করেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর অবস্থিত। দেশটির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল বেসামরিক স্থাপনা, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ভিন্ন দাবি করেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন