প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জামালপুর পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল আধুনিক পানি শোধনাগার ও বিশাল পানির ট্যাংক। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাঙ্ক্ষিত সেবা আজও অধরাই রয়ে গেছে। কাগজে-কলমে সম্পন্ন এই প্রকল্প বাস্তবে এখন পরিণত হয়েছে তালাবদ্ধ ভবন, মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও অচল অবকাঠামোর এক নীরব প্রতীকে।
শহরের বগাবাইদ বোর্ডঘর এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা সুউচ্চ পানির ট্যাংকটি দূর থেকে আধুনিকতার ছাপ বহন করলেও কাছে গেলেই ফুটে ওঠে অবহেলার চিত্র। চারপাশে নীরবতা, অযত্ন আর দীর্ঘদিনের ব্যবহারের অভাব স্পষ্ট করে দেয়- এটি কেবল একটি অচল স্থাপনা, যার সঙ্গে বাস্তব সেবার কোনো সংযোগ নেই।
পৌরবাসীর ঘরে ঘরে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। এর আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় পানি শোধনাগার এবং তিন কোটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৮০ কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক। ২০২১ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে জামালপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
ফলে একদিকে যেমন শহরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে কোটি টাকার অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে থেকে ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে, ভবনের অবস্থা অবনতি হচ্ছে—যা জনসম্পদের অপচয়ের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির কারণেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে না। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রকল্পটি চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আজ প্রশ্নের মুখে- কোটি টাকার বিনিয়োগের পরও যখন নাগরিকরা মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত, তখন এর দায় কে নেবে?
বাংলাধারা/এসআর
মন্তব্য করুন