প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৩:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরো বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত, অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে।
জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাধারা/ডেক্স
মন্তব্য করুন