প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৫:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
উজানের ভারী বৃষ্টিপাত এবং বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক প্রবণতার কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্ষার মধ্যভাগে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিবছরই বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় পানির প্রবাহ একসঙ্গে বৃদ্ধি পেলে বন্যার তীব্রতা বাড়তে পারে।
এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে জুলাই ও আগস্ট মাস বাংলাদেশের জন্য বন্যার দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় দেশের পাশাপাশি উজানেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের নদ-নদীতে।
তিনি জানান, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা অববাহিকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর বেশির ভাগই ঘটেছে জুলাই ও আগস্ট মাসে।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অতিবৃষ্টির কারণে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড পানিতে তলিয়ে যায়।
এর এক দশক পর ১৯৯৮ সালের বন্যা টানা দুই মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল। ওই বন্যায় এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় তিন কোটি মানুষ পানিবন্দি বা বাস্তুচ্যুত হন।
এ ছাড়া ২০০৪ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়েও বড় বন্যার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে মেঘনা অববাহিকায় এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব ঘটনা উজানের অতিবৃষ্টির প্রভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিন আবারও পানি বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
এদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থার পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে ওই দুই জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।
বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিভিন্ন নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
সারদার উদয় রায়হান জানান, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আর উপকূলীয় নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রায় তিন দিন আগে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে, যা দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন