প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১২:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে অধিকাংশ সবজিই এখন ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো সবজির দাম পৌঁছেছে ১৬০ টাকায়। আর সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ, যার কেজি ২৮০ টাকা। কোথাও কোথাও এর দাম ৩০০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে দেখা যায়, কচুর লতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, শসা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, উচ্ছে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল, চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়সের কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা, জালি ৮০ টাকা এবং পেঁপে তুলনামূলক কম দামে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলেছে কাঁচা মরিচের দাম। প্রতি কেজি ২৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বিভিন্ন বাজারে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।
মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী হায়দার আলী বলেন, "গত কয়েক দিন ধরেই সবজির দাম বাড়ছিল, কিন্তু আজ এসে দেখি প্রায় সব সবজিই ১০০ টাকার ওপরে। কাঁচা মরিচ কিনতে হয়েছে ২৮০ টাকা কেজি দরে। বর্ষাকালে কিছুটা দাম বাড়তেই পারে, কিন্তু কোনো নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।"
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন রামপুরা বাজারের ক্রেতা মাসুদ রানা। তিনি বলেন, "কয়েক দিন আগেও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যেত। এখন প্রায় সবকিছুই ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। সবজিরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মাছ-মাংস কেনা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে যাবে।"
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দায় দিচ্ছেন টানা বৃষ্টিকে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজিমুদ্দিন বলেন, "বৃষ্টির কারণে মাঠে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। আবার বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।"
ব্যবসায়ীদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। ফলে বাজারে সবজির সংকট তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন সবজির দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন