প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০১:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের পক্ষ থেকে শান্তি সংলাপের আগ্রহ প্রকাশের পরই দেশটিতে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে খুবই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তার ভাষায়, “তারা খুব ভদ্রভাবে আমাদের বলেছে, ‘দয়া করে অভিযান বন্ধ করুন, আসুন সাক্ষাৎ করি।’ আমরা এখন সেই অবস্থায় আছি। দেখা যাক কী হয়। যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তাহলে আবার আগের পথেই ফিরে যেতে হবে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছিল। ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিমান অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এর পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
টানা ১৩ রাত পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত ২৫ জুলাই সেন্টকম সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এরপর থেকেই ইরানও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা বন্ধ রাখে।
এর আগে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতির আওতায় পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রয়টার্সে সেই তথ্য প্রকাশের একদিনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো, যা সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কারণ, মাত্র দুই দিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন