বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭ ঘন্টা আগে, ১০:১১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’ হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুল ধারণা দূর করা এবং রোগ প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য করার বার্তা বহন করছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখো মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অথচ সময়মতো টিকাদান, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’, এই নীতিকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণীর শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আরও সফল হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন