প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১১:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ত্বক শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না। ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতির ওপর। শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হিসেবে ত্বক প্রতিনিয়ত বাইরের নানা ক্ষতিকর উপাদান থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। তাই ত্বককে সুস্থ রাখতে বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকেও পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগানো জরুরি।
খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সঠিক পুষ্টি ত্বকের আর্দ্রতা, স্থিতিস্থাপকতা ও স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ত্বকের আর্দ্রতা ও নমনীয়তা ধরে রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এক ধরনের পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করতে হয়।
মাছ, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ ও অ্যাভোকাডোর মতো খাবারে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ ত্বকের কোষের গঠন ঠিক রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
প্রোটিন
ত্বকের গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর খাবার থেকে পাওয়া প্রোটিনকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে ভেঙে নেয়। পরে এসব অ্যামাইনো অ্যাসিড ব্যবহার করে কোলাজেন ও কেরাটিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করা হয়।
কোলাজেন ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কেরাটিন ত্বকের গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ ত্বকের পুরোনো কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করে।
ডিম, মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পাশাপাশি ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়।
ভিটামিন এ
ত্বকের সুস্থতার জন্য ভিটামিন এ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি ত্বকের কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে এবং কোলাজেনের ক্ষয় কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ভিটামিন এ-এর ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানিযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। ত্বকের ক্ষত সারাতেও এই ভিটামিন ভূমিকা রাখে।
পালং শাক, আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি, ডিম, মাছ, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভিটামিন সি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। কোলাজেন তৈরিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোলাজেন ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোষকে সুরক্ষা দিতে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
লেবু, কমলা ও অন্যান্য সাইট্রাস ফল, ক্যাপসিকাম, কিউই, ব্রোকলি, স্ট্রবেরি ও ব্রাসেলস স্প্রাউট ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।
ভিটামিন ই
ত্বকের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো ভিটামিন ই। এটি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে এবং ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেলে ভিটামিন ই পাওয়া যায়। ভিটামিন সি-এর সঙ্গে মিলে এটি ত্বকের কোষকে ক্ষতিকর পরিবেশগত প্রভাব থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
জিঙ্ক
ত্বকের সুস্থতা ও ক্ষত সারানোর জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর একটি হলো জিঙ্ক। এটি কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন, কোষের গঠন ঠিক রাখা এবং ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
জিঙ্কের ঘাটতি হলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলাতেও জিঙ্কের ভূমিকা রয়েছে।
ঝিনুক, লাল মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক খাবার, বাদাম, গোটা শস্য ও দুগ্ধজাত খাবার জিঙ্কের ভালো উৎস।
শুধু প্রসাধনী নয়, নজর দিন খাবারেও
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন কিংবা অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসও ত্বকের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন