প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের পছন্দে গড়ে ওঠা কোচিং স্টাফের দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আর রাখছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই পরিবর্তন। একই সঙ্গে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। দুজনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বোর্ড।
ভারতের পরবর্তী শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই নতুন কোচিং স্টাফের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে তিনি বলেন, রায়ান টেন ডেসকাট ও টি দিলীপের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তা আর নবায়ন করা হচ্ছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের পরিবর্তে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হবে।
গম্ভীর ভারতের প্রধান কোচ হওয়ার পরই কোচিং স্টাফে যোগ দিয়েছিলেন টেন ডেসকাট ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মরনে মরকেল। এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সে গম্ভীরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল টেন ডেসকাটের। ফলে জাতীয় দলেও গম্ভীরের অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এই ডাচ অলরাউন্ডার।
তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে আবারও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ফিরতে চান টেন ডেসকাট। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সে ফিরতে পারেন। খেলোয়াড় হিসেবে কেকেআরের হয়ে দুটি শিরোপা জেতা টেন ডেসকাট ২০২৪ সালের আইপিএলেও দলের সাপোর্ট স্টাফের অংশ ছিলেন। দলের বর্তমান প্রধান কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে টি দিলীপের বিদায়ও ভারতীয় দলের ফিল্ডিং পারফরম্যান্স নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। রাহুল দ্রাবিড়ের মেয়াদ শেষে দিলীপকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে তাকে গম্ভীরের কোচিং প্যানেলে রাখা হয়েছিল। এবার তার পরিবর্তে আসামের সাবেক ক্রিকেটার শুভদীপ ঘোষকে ফিল্ডিং কোচ করার কথা ভাবছে বিসিসিআই।
তবে বোলিং কোচ মরনে মরকেলের অবস্থান আপাতত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে বিসিসিআই। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দেশটির কন্ডিশন সম্পর্কে মরকেলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় ভারত।
গম্ভীরের দুই বছরের কোচিং অধ্যায়ে এর আগেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির পর সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিসিসিআই। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় সিতাংশু কোটাককে।
এদিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে ভারতের ব্যর্থতা কোচিং স্টাফের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ জিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে দলটি, তবু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পরিবর্তনের পথেই হাঁটছে বিসিসিআই।
বিশেষ করে ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে ভারতের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। টেন ডেসকাট মূলত সিতাংশু কোটাকের সঙ্গে ব্যাটিং বিভাগ এবং ফিল্ডিং নিয়ে কাজ করতেন। ফলে তার বিদায়ের পর নতুন কোচিং কাঠামোয় দায়িত্ব বণ্টনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই গম্ভীরের কোচিং প্যানেলে নতুন মুখ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর এই পরিবর্তন ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন