প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা, সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল। একই সঙ্গে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি। এ সময় সার্ককে কার্যকর করা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সংসদীয় কূটনীতি জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির কার্যক্রম স্থবির থাকলেও সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করে আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।
সার্ককে গতিশীল করতে নেপালকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান কায়সার কামাল। নেপালের রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে পূর্ণ সম্মতি প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠিত হওয়ায় দেশটির স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও দ্রুত বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি মৈত্রী গ্রুপ গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কায়সার কামাল বলেন, দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপগুলো সক্রিয় হলে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি জোরদার, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সফর বৃদ্ধি এবং আইন প্রণয়ন ও সুশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাতে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, পানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে নেপালের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বাংলাদেশ সফলভাবে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
সৌজন্য সাক্ষাতে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন প্রতীক কার্কি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন