প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০২:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ উৎখাতের আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে, এখন দেশ গড়ার সময়। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের জনগণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেননি। বরং শুরু থেকেই তিনি এ বিজয়কে জনগণের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় তারেক রহমানের দেওয়া বিভিন্ন স্লোগান নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট রাজপথেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে দেশ গড়ার রাজনীতিতে মনোযোগ দিতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার, কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, আন্দোলন কারও কাছে পেশা হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে এর উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাও সবার দায়িত্ব।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন