প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:২৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গণভোটের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রলোভন ও সমঝোতার প্রস্তাব এলেও জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি জামায়াত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের দাবি শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষ থেকেই উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দল জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে একচুলও সরে যাবে না। কোনো অবস্থাতেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। এখনও সময় আছে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে।
দলকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তবে এসব চাপের কাছে জামায়াত নতি স্বীকার করবে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আমরা ভয় করি না।’ দলের নেতারা অতীতেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি এবং ভবিষ্যতেও সেই আদর্শে অটল থাকবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির। তার দাবি, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশনসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
এটিকে তিনি ‘নতুন ধরনের কোটা ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দুর্নীতিবাজদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, যখন অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলনকে কেবল শিক্ষার্থীদের বিষয় হিসেবে দেখছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল।
তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও জামায়াত কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি বলে জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিজেদের আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করিনি। শহীদের সংখ্যা দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও চেষ্টা করিনি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দেশের নিরীহ মানুষ যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের হত্যার বিচার কেন হবে না? সময় যতই লাগুক, একদিন এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সেলিম উদ্দিন ও নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন