বাংলাধারা স্পোটর্স

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:০৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি ইউরোপের ৫৫ দেশের

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়েছে উয়েফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকি দিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ।

জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টের মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।

উয়েফার এমন অবস্থান বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরে ইউরোপের দলগুলোর উপস্থিতি বরাবরই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ। সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দলগুলো অংশ না নিলে বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দর্শক আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক মূল্য- সবকিছুতেই বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে।

মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে থাকা জশুয়া কুশনারকে সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফিফার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোর আর্থিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবেশ ঘটবে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রস্তাবটির আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭-৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সদস্যদেশগুলোর অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। এর পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্যদেশগুলোকে এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রস্তাব অনুমোদন না হলে অনুদান ১ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ প্রস্তাবের পক্ষে না থাকা প্রতিটি সদস্যদেশ প্রায় ৩ কোটি ডলার পর্যন্ত কম অর্থ পেতে পারে।

এই আর্থিক ব্যবধানকেই উয়েফা সদস্যদেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে।

উয়েফা বলছে, সদস্যদেশগুলোর সামনে কার্যত একটি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে- বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, অথবা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নয়; বরং আর্থিক ক্ষতির ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।

উয়েফার মতে, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগও থাকা উচিত নয়।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হলে ফুটবলের স্বার্থের বদলে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাধান্য পেতে পারে।

উয়েফার ভাষ্য, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়, যাদের প্রধান লক্ষ্য সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন। বিশ্বকাপকে ফুটবলের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, এটি কোনোভাবেই বিক্রির পণ্য নয়।

ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থনও প্রয়োজন হবে।

এ কারণে শুধু ইউরোপের ৫৫টি দেশের অবস্থানই যথেষ্ট নয়। প্রস্তাব ঠেকাতে হলে এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ওশেনিয়ার অন্যান্য সদস্যদেশের সমর্থনও আদায় করতে হবে উয়েফাকে।

ফলে ১৯ সেপ্টেম্বরের ভোটের আগে বিশ্ব ফুটবলে শুরু হতে পারে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা। একদিকে ফিফা তাদের প্রস্তাবের আর্থিক সুবিধা তুলে ধরে সদস্যদেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে, অন্যদিকে উয়েফা বিশ্বকাপের মালিকানা ও ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণের ঝুঁকি সামনে এনে বিরোধিতা জোরদার করবে।

শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব কোথায় গিয়ে থামে, তা শুধু ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কই নয়- বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ কাঠামোতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন