তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ছবি: বাংলাধারা

রাজশাহীর তানোরে একটি সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছর ধরে ঝুলে আছে। এলজিইডির তদারকির ঘাটতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের চাপড়া সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। উল্টো কাজ শেষ করার সময় আরও দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পুরোনো সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ভোগান্তি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে টেন্ডার হওয়া তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের লব্যাতলা সেতুর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেটি উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলও করছে। অথচ চাপড়া সেতুর ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৫ মে চাপড়া সেতুর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় জামালপুরের চন্দ্রা হাট এলাকার এমসিই ও এমএইজেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২৭ দশমিক ৫৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ ৩৭১ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩০ মে শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রায় তিন বছর পার হলেও সেতুটির নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণাধীন সেতুটির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ টাকা।

তবে সেতুটির কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের চাপড়া বাজার পার হলেই পাশাপাশি দুটি সেতু। পুরোনো সেতুর পূর্ব পাশে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝের আরও দুটি পিলারে দীর্ঘদিন ধরে সাটারিং লাগানো অবস্থায় রয়েছে। সাটারিংয়ের কাজে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কাজে জ্যাক পাইপ ও লোহার পাইপ ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।

এদিকে পুরোনো সেতুর দুই পাশে এবং সংযোগ সড়কের অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই পুরোনো সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নোটিশ দেওয়াসহ নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও ঠিকাদার কাজের গতি বাড়াচ্ছেন না।

তিনি বলেন, ‘এত তাগাদা ও নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদারের মধ্যে কাজের দায়বদ্ধতা আছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। উপজেলা পর্যায়ের এলজিইডি কার্যালয়ের সেতুর কাজ বাতিল করার ক্ষমতা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।’

তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় তারা নিজেরাও সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

তবে সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘কাজের মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, মেয়াদ বাড়িয়ে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। কারণ পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন সেতু দ্রুত চালু করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ যেখানে এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, সেখানে তিন বছরেও কাজ শেষ না হওয়ার দায় নেবে কে? এখন দ্রুত কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করাই তাদের প্রধান দাবি।

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন