প্রকাশিত: ৫৮ মিনিট আগে, ০৮:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তিনি এটিকে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, তারা এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির অনুলিপি পেয়েছে। সেখানে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের জন্য ১৪ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক যাচাইকারী সংস্থার অনুমোদন থাকলে এ সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত রয়েছে। হামাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ বলেছেন, ইসরায়েলকে আগে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং উপত্যকার পুনর্গঠনে অগ্রগতির ওপর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নির্ভর করবে। ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
‘বোর্ড অব পিসের’ এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির কাছে তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে। প্রথম ধাপে পুলিশের কাছে থাকা অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। এরপর ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই পরিকল্পনার আওতায় গাজায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার কথা রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে সম্পন্ন হবে না; ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকার প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সরকার ‘বোর্ড অব পিসের’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে গাজার জনগণের সেবা করবে।
তাঁর দাবি, গাজাকে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এ পরিকল্পনার অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও একটি একীভূত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে গত সপ্তাহের শেষভাগ থেকে হামাসের নেতারা মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার প্রশাসন ও পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিশরের আল-কাহিরা নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে মিশর, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে আরও বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
মিশরীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দল প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং জাতীয় কমিটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ও রয়েছে।
তবে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ জানিয়েছে, হামাস, অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ও ইসরায়েলের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। আলোচনায় ব্যবহৃত কিছু শব্দচয়ন নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতি তৈরি হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো নির্ভর করছে একাধিক পক্ষের সম্মতি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ বেশ কিছু জটিল শর্তের ওপর।
সবশেষে, চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে হামাসের অস্ত্র হস্তান্তর এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বাস্তবায়ন। এই দুটি বিষয় কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়, তার ওপরই গাজায় নতুন প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন