বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০২:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সপ্তাহজুড়ে চাঙা শেয়ারবাজার, সূচক-লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী গতি

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। গত ২৬ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। একই সঙ্গে ডিএসইর অন্যান্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি লেনদেনেও কিছুটা গতি ফিরেছে। দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।

সাপ্তাহিক বাজারচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ২৫ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে এ সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৭ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্ট।

অন্যদিকে, শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে উঠেছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। এছাড়া ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি।

বাজারের সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ডমিনেজের শেয়ার।

লেনদেনের চিত্রেও ছিল কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহেও বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৫ শতাংশই হয়েছে এ খাতের শেয়ারে। ফলে লেনদেনের হিসাবে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত।

১২ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন, যা খাতভিত্তিক তালিকায় তৃতীয়। সাধারণ বিমা খাত ১০ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে ছিল চতুর্থ অবস্থানে। আর ৭ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত।

সাপ্তাহিক রিটার্নের হিসাবেও বেশির ভাগ খাতে ছিল ইতিবাচক প্রবণতা। সবচেয়ে বেশি ৮ শতাংশ রিটার্ন এসেছে সাধারণ বিমা খাতে। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খাতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিবিধ খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

তবে কয়েকটি খাতে নেতিবাচক রিটার্নও দেখা গেছে। এর মধ্যে সিমেন্ট খাতে দশমিক ৭ শতাংশ, কাগজ খাতে দশমিক ৪ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দশমিক ১ শতাংশ করে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ১৫ হাজার ৬২০ পয়েন্ট।

এদিকে, সিএসসিএক্স সূচকও সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে এ সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৫৩৭ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ১৭০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮৮টির দর বেড়েছে, ১১৩টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সার্বিকভাবে সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি এবং দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন