প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১১:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জামালপুরের মেলান্দহে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ‘মা বেঁচে আছেন’, এমন ধারণা থেকে কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্বজনরা মরদেহটি মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জামালপুরের একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে মেলান্দহ উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর মাহমুদপুর গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬৫) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে মারা যান। পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তবে দাফনের পর থেকেই হালিমা খাতুনের মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে সুলতানা (৪০) দাবি করতে থাকেন, তার মা মারা যাননি, তিনি জীবিত আছেন। এ নিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের বারবার বলতে থাকেন। একপর্যায়ে স্বজনরা বিষয়টি বিশ্বাস করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কবর খুঁড়ে হালিমা খাতুনের মরদেহ উত্তোলন করেন।
এরপর তিনি জীবিত আছেন কি না নিশ্চিত হতে মরদেহটি প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে মরদেহ নিয়ে জামালপুর শহরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও যান। সেখানকার চিকিৎসকরাও পরীক্ষা করে জানান, হালিমা খাতুন আগেই মারা গেছেন।
পরে চিকিৎসকদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনরা মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান এবং রাতেই পুনরায় দাফন করেন।
মৃতের ছেলে হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আমার মা শুক্রবার রাতে মারা যান। শনিবার সকালে জানাজা শেষে তাকে দাফন করি। কিন্তু আমার বোন বারবার বলতে থাকে, মা বেঁচে আছেন। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও পারিনি। একপর্যায়ে কবর থেকে মায়ের মরদেহ তুলি। তখন আমাদেরও মনে হচ্ছিল, মায়ের হাত-পা একটু নড়ছে। পরে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইসিজি করে চিকিৎসক জানান, মা মারা গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমরা মাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জামালপুরে নিয়ে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরাও জানান, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। পরে মরদেহ বাড়িতে এনে আবার দাফন করি।’
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে সহকর্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, রাতে কয়েকজন একটি মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। ইসিজি পরীক্ষায় ওই নারীকে মৃত পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাস না করে মরদেহ নিয়ে জামালপুরে চলে যান।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।’
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন