বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১২:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

টি-টোয়েন্টিতে অবিশ্বাস্য কীর্তি, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন!

ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৮০-৯০ রান এখন যেন জয়ের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। সেখানে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ৮৫ রান করেও শিরোপা জেতা,এমন কীর্তি সত্যিই বিরল। গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে অবিশ্বাস্য সেই ঘটনাই ঘটিয়েছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।

রোববার সকালে প্রভিডেন্সে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসকে মাত্র ৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গ্লোবাল সুপার লিগের শিরোপা জিতেছে গায়ানা। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়েছে তারা।

জয়ের জন্য সান ফ্রান্সিসকোর প্রয়োজন ছিল ৮৬ রান। শেষ ওভারে ম্যাচ জমে ওঠে। জয়ের জন্য শেষ ১০ বলে দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো মিড-অফে বল ঠেলে দ্রুত এক রান নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বোলারের প্রান্তে থাকা শিমরন হেটমায়ার দ্রুত স্টাম্প ভেঙে দেন। রানআউটের সঙ্গে শেষ হয় সান ফ্রান্সিসকোর লড়াই, নিশ্চিত হয় গায়ানার অবিশ্বাস্য জয়।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে গায়ানা। মাত্র ৬.২ ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটার। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ রান করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। একপর্যায়ে ৫ উইকেটে গায়ানার সংগ্রহ ছিল মাত্র ২৫ রান। ওই ধসের বড় কারণ ছিলেন পিটার সিডল, যিনি তিনটি উইকেট তুলে নেন।

অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়। ৮ উইকেট হারিয়ে গায়ানার রান দাঁড়ায় ২৯। তখন মনে হচ্ছিল, দলটি হয়তো ৩০ রানও পেরোতে পারবে না। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ম্যাথু ফোর্ড।

নবম উইকেটে দুজনের ৪১ রানের জুটি গায়ানাকে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে টেনে তোলে। ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ফোর্ড ২৩ বলে ২৮ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। শেষ পর্যন্ত ৮৫ রানে অলআউট হয় গায়ানা।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সান ফ্রান্সিস্কো শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল। প্রিটোরিয়াস দুটি এবং গুডাকেশ মোটি একটি উইকেট তুলে নিলে মাত্র তিন ওভারেই ৩ উইকেট হারায় তারা। তবে স্কোরবোর্ডে তখনও ছিল ২৮ রান—জয়ের পথ খুব একটা কঠিন মনে হচ্ছিল না।

এরপর হাল ধরেন অলিভার পিকে। হাসান খানের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে মাত্র ১০ বলে ২২ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। পিকে শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৩১ রান করেন।

তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ক্রিজে এসে রান তুলতে ব্যর্থ হন। মোহাম্মদ নবীর বিপক্ষে বিশেষভাবে চাপে পড়ে যায় সান ফ্রান্সিসকো। পিকের সঙ্গে ২৫ রানের জুটিতে ৪৩ বল খেলেও সঞ্জয় করেন মাত্র ৯ রান।

এরপর নবী টানা দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন কৃষ্ণমূর্তি ও ৩১ রান করা পিকেকে। মাঝের ওভারে ইমরান তাহিরও তুলে নেন জোড়া উইকেট। একের পর এক উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপের মধ্যে পড়ে যায় সান ফ্রান্সিসকো।

শেষ দিকে জয়ের জন্য যখন ১৪ বলে দরকার ছিল ১৪ রান, তখনও ম্যাচে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ উইকেট জুটির চাপ সামলাতে পারেনি সান ফ্রান্সিসকো। শেষ পর্যন্ত সেই রানআউটেই ম্যাচের পর্দা নামে।

অবিশ্বাস্য বোলিং ও দারুণ লড়াইয়ে মাত্র ৮৫ রান করেও ৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। ফাইনালে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস।

টি-টোয়েন্টির রানের বন্যার যুগে মাত্র ৮৫ রানকে পুঁজি করে ফাইনাল জেতা তাই শুধু একটি শিরোপা নয়, ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার মতোই এক অবিশ্বাস্য কীর্তি।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন