প্রকাশিত: ৪২ মিনিট আগে, ০৬:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে, তা জানা যাবে শেষ মুহূর্তে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র। আর বিএনপির প্রার্থীই যে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি নিয়ে আর কোনো সংশয় নাই। কারণ সংসদে সংখ্যাগরিষ্টতা বিএনপির।
বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, যেহেতু দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে, সেজন্য দল কোনো আগাম ঘোষণা দেবে না। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় জানা যাবে, প্রার্থী কে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফশিল অনুসারে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।
এদিকে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দিক থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দুদিন আগে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির সূত্র বলছে, ১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই।
১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও, থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।
প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।
মির্জা ফখরুল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েও, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় নিজের ব্যক্তিগত ইমেজের রাজনীতি করে যান। তবে তার ঘাড়ে দায়িত্ব পড়ে বিএনপি সামলানোর। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন