বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:১৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী বোর্ডে এসএসসির ৯৮ হাজার ৭১০ খাতা চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। প্রকাশিত ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য এ বোর্ডে ৯৮ হাজার ৭১০টি লিখিত পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্যও আবেদন করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আট জেলার মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ১১৩ জন। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ২০২০ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর মধ্যেই ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এনেছে। গত ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে লিখিত পরীক্ষার ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন জমা পড়ে।

শুধু লিখিত পরীক্ষার খাতাই নয়, ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল নিয়েও পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ক্ষেত্রে আবেদন পড়েছে ২৩ হাজার ৫১৮টি। সব মিলিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ২২ হাজার ২২৮টি আবেদন জমা পড়েছে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন জানান, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজি বিষয়ে। এরপর রয়েছে গণিত। অন্যান্য বিষয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। তবে আবেদনগুলো বর্তমানে বিষয় কোড অনুযায়ী সংরক্ষিত থাকায় কোন বিষয়ে ঠিক কতটি আবেদন পড়েছে, তা এই মুহূর্তে আলাদাভাবে জানানো সম্ভব নয়।

ফল প্রকাশের পর খাতা চ্যালেঞ্জের এমন বড় সংখ্যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে। এখন পুনঃনিরীক্ষণের পর কতজন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয় এবং কতজন নতুন করে কাঙ্ক্ষিত গ্রেড বা জিপিএ অর্জন করতে পারেন, সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন