প্রকাশিত: ৪৮ মিনিট আগে, ০৩:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাছের পোনা অবমুক্ত করার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মাছ বড় হয়ে ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে যে সুফল তৈরি হবে, তা বাংলাদেশের মানুষই ভোগ করবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই মাছ বড় হলে এর উপকার লন্ডন কিংবা জাপানের মানুষের হবে, নাকি বাংলাদেশের মানুষের? পরে নিজেই বলেন, এর সুফল ভোগ করবে দেশের মানুষ।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য দেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে বিজয়ী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই পরিচালিত, যার সুফল সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী পাবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
খাল খননে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে খাল খননের কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর আল্লাহর রহমতে সারা দেশে সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। খাল খননের ফলে কৃষকরা যেমন সেচ সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।
তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকাজে সেচের পাশাপাশি এসব খাল ও জলাশয়কে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর কাজে লাগাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে আজ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় বড় খালেও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর ফলে একদিকে কৃষকের সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়
দেশের উন্নয়নে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অংশীদার করতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা ও জনপ্রতিনিধি।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন