বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৮:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

খুলে দেওয়া হলো আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন

ছবি; সংগৃহিত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সার্ভিস সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই সাধারণ যানবাহনের জন্য সেতু দুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সার্ভিস সেতু দুটি দুই লেনবিশিষ্ট। ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো টোল দিতে হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-আশুলিয়া সড়কের ধউর ও আশুলিয়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে যানজট একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কর্মদিবসে সকাল ও বিকেলে এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী এবং রাজধানী থেকে শিল্পাঞ্চলমুখী বিপুলসংখ্যক যানবাহন প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে। এর সঙ্গে দূরপাল্লার যানবাহন যুক্ত হওয়ায় যানজট আরও তীব্র হয়।
নতুন সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় ধউর থেকে আশুলিয়া অংশে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প পথ তৈরি হলো। এর ফলে বিদ্যমান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে এবং চলাচলে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আশুলিয়া ও সাভার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এ এলাকায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহন এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বন্দরের দিকে পাঠাতে এ সড়ক ব্যবহৃত হয়।
যানজটের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মস্থলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগে। একই কারণে পণ্যবাহী যানবাহনও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকে। এতে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে। সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া, সাভার, বাইপাইল, ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ডিইপিজেড এবং আশপাশের শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি র্যাম্প, অ্যাট-গ্রেড সড়ক এবং বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর ভৌত অগ্রগতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে একযোগে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সার্ভিস সেতু চালু করার ফলে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও আরও নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের কাজের সময় স্থানীয় যানবাহনের চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নতুন সার্ভিস সেতু সেই সুযোগ তৈরি করেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, জনগণ যাতে পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই এর সুফল পেতে শুরু করেন, সে লক্ষ্যেই সার্ভিস সেতু চালু করা হয়েছে। এসব সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলে টোল নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলে রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া ও সাভার অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহনের বড় একটি অংশ এ রুট ব্যবহার করে।
এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এসব যানবাহনের একটি অংশ দ্রুতগতির পৃথক সড়ক ব্যবস্থায় চলাচলের সুযোগ পাবে। এতে বিদ্যমান সড়কের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও কমে আসতে পারে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকা থেকে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, ধউর, আশুলিয়া, সাভার ও বাইপাইলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ সড়ক করিডোরের যানবাহন চলাচল আরও সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যানজট নিরসন নয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আশুলিয়া ও সাভার শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন সহজ হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সময় ও ব্যয় কমতে পারে।
তবে প্রকল্পের কাক্সিক্ষত সুফল নিশ্চিত করতে মূল এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি র্যাম্প, ইন্টারচেঞ্জ, সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজও যথাসময়ে শেষ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে ও সার্ভিস লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধউর ও আশুলিয়া অংশে যানজটের কারণে প্রতিদিন তাদের দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। নতুন সার্ভিস সেতু চালুর ফলে যাতায়াতের সময় কমবে এবং চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে তারা আশা করছেন।
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও নতুন সড়কপথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। যানজটের কারণে তাদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে দেরি হলে উৎপাদন কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এ সমস্যা কমে আসতে পারে।
পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সার্ভিস সেতু দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকা ও আশুলিয়ার মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন নতুন পথ ব্যবহার করতে পারলে পুরোনো সড়কের ওপর চাপ কমবে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও পরিচালন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের একটি অংশ হিসেবে সার্ভিস সেতু দুটি চালু হওয়াকে তাই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই এর একটি অংশ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্টদের বলছেন, সার্ভিস সেতু চালুর মাধ্যমে ধউর-আশুলিয়া অংশে যান চলাচলে গতি ফিরবে এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
পুরো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিম প্রবেশপথে যানজট কমানোর পাশাপাশি ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার ও দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। এর ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন