প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পৌর সচিব) মো. ইউসূফ আলীর বিরুদ্ধে অফিসে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে না আসায় ঝুলে থাকছে প্রশাসনিক কাজকর্ম, চরম ভোগান্তি ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি সপ্তাহে একদিন অফিসে এলে পরদিনই থাকেন অনুপস্থিত।
সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় দৈনন্দিন নাগরিক সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
গতকাল সোনাগাজী পৌরসভা কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “জরুরি কাজে পৌরসভায় এসে কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। একদিন এলে আরেক দিন তিনি গায়েব। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম এভাবে চললে নাগরিকেরা কোথায় যাবে?নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন পূর্ণকালীন অফিসে উপস্থিত থাকার বিধান থাকলেও, এভাবে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই বলে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসূফ আলী নিজেই। নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা এবং স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, পায়ে সমস্যা। তা ছাড়া বাবা অসুস্থ থাকায় তাঁর দেখাশোনা করতে হয়। অফিসে আসা-যাওয়ায় প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে, তাই মাঝেমধ্যে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। আমার চাকরির মেয়াদও বেশি দিন নেই। আগের ইউএনও স্যারকে বদলির কথা বলেছিলাম। বর্তমানে সপ্তাহে তিন-চার দিন ডিউটি করতেছি।অফিসে নিয়মিত না থেকেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে না দাবি করে তিনি আরও বলেন, “আমার টেবিলে থাকা ফাইল ও নাগরিক সেবাগুলো দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করি।কর্মকর্তার এমন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইন বলেন, “পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থতার কারণে কোনো দিন আসতে না পারলে তাঁকে ছুটির আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিসে যেটা নিয়ম, আমি সেটাই বলেছি—যেদিন আসতে পারবেন না, ছুটির দরখাস্ত দিয়ে যাবেন।তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যেসব দিন পৌরসভা পরিদর্শন করেছেন, সেসব দিনে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে পেয়েছেন। বদলি না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও জানান ইউএনও।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে এভাবে দিনের পর দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং ছুটির সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। পৌরসভার নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাধারা/ (রবি),
মন্তব্য করুন