প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অস্ত্রসহ মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারী বহিরাগতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার পর শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে শনাক্ত হওয়া অস্ত্রধারীদের মধ্যে রয়েছেন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার, রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসুল (পদমদি) এবং মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।
তবে অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচয় শনাক্ত হওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার তার বিরুদ্ধে ওঠা অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উস্কানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। সেখানে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। আমি সবাইকে চিনি না। এছাড়া পরিচয় শনাক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা কোনো বহিরাগত নিয়ে আসিনি। এ বিষয়ে জানি না। ওটা বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো আসতে পারে। সম্পূর্ণ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছি।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বিবদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আজ কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দিয়েছি। বহিরাগতদের প্রবেশসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, গতকাল রাত থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন কঠোর ও সচেতন রয়েছে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন