বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বরগুনায় বাড়ছে ডেঙ্গু, ১৫ দিনে আক্রান্ত ৩০০

ছবি; সংগৃহিত

গত বছরের হটস্পট বরগুনায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তুলনামূলক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও সেপ্টেম্বরের ১৫ দিনে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০০ জন। আর এ বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ২২২ জন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরগুনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৮ জন। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ২১ জন। 
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আছেন আরও ৪১ জন। তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। যার মধ্যে বেতাগীতে ২, আমতলীতে ৪, পাথরঘাটায় ৫ বামনায় ২ এবং তালতলীতে ১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। 
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২২২ জন। আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৭৬, পাথরঘাটায় ২৮৩, বেতাগীতে ৮১, বামনায় ৬৩, আমতলীতে ৬০ এবং তালতলীতে ৫৯ জন। তবে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে ১ হাজার ১৬০ জনই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বরগুনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। 
গত বছর জেলায় সর্বাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই বছর জেলায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর অন্তত ৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। তবে এ বছর বরগুনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারও মৃত্যু না হলেও গত (৩ সেপ্টেম্বর) বরগুনা-১ আসেনর সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর শাশুড়ি মোসা. শাহানাজ বেগম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ২০২৫ সালে আমাদের ডেঙ্গুর হটস্পট ছিল। গত বছর আমরা ৯ হাজার ৭৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি। সে অনুযায়ী গতবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক কম। এ অবস্থায় গত বছরের থেকে এ বছর আমরা ভালো আছি এবং পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 
হঠাৎ করে ডেঙ্গু বেড়ে গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ১০ হাজার ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে পেরেছি। আমাদের গত বছর থেকেই প্রস্তুতি ছিল। বর্তমান সরকার আমাদেরকে যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, আমরা এ বছর ডেঙ্গু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। সরকারিভাবে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে  এবং আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে সামষ্টিকভাবে সব অংশীজনদের সচেতন ভূমিকায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন