বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৩৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শক্তিশালী দল নিয়েও এশিয়ান গেমসে ব্যর্থ লিটনরা, দায় কার?

ছবি; সংগৃহিত

বরাবরই বড় স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে খেলতে গেলেও অধিকাংশ টুর্নামেন্টেই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে।  সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমস খেলতে দেশ ছাড়ার আগেও সোনা জেতার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অথচ এই আসরে খেলে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি তারা। বৃষ্টিতে কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। শেষ চারে পাকিস্তানকে হারালেই একটা পদক নিশ্চিত হতো। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে টাইগাররা। এই হারের ফলে সোনা কিংবা রুপা জেতার সুযোগ হারায় লিটন দাসের দল।
এরপরও ব্রোঞ্জ জেতার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরেছে টাইগাররা। এমন হারে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। ম্যাচ শেষে কোচ সালাহউদ্দিন দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

তবে অধিনায়ক লিটন ব্যর্থতা স্বীকার করলেও যেন অনুতপ্ত নন! লিটন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমরা দেশ থেকে যখন এসেছি, একটা বড় টার্গেট নিয়ে এসেছি। যখন সেরাটা দিতে পারিনি, টিম হিসেবে, ক্যাপ্টেন হিসেবে সবারই খারাপ লাগবে এবং খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ টিম অনেক কিছুই দিয়েছে অতীতে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা ওইটার জন্যই চেষ্টা করব আবার।’
লিটনের এমন উত্তর অবশ্য নতুন না। কারণ ব্যাট হাতে কখনই তিনি ধারাবাহিক হতে না পারলেও সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেন। সাদা বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি, যে কারণে তার থেকে বাড়তি চাওয়া ভক্তদের। যেখানে তিনি একেবারে ব্যর্থ। 
এমন ব্যর্থতায় সবার আগে ব্যাটারদের দায় নিতে হবে। কারণ কোনো ম্যাচেই ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেনরি। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসানরা ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। লিটন দাসও রান পাননি। 

প্রশ্ন উঠতে পারে দল নির্বাচন নিয়েও। আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলানো নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। স্পিন বান্ধব উইকেটে বাড়তি পেসার খেলানোটা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল।
দলের এমন ব্যর্থতা নিয়ে বিসিবির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বললেন, ‘এমন হার অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক, মন খারাপ হওয়ার মতোই বিষয়। আমরা সোনা জয়ের জন্যই জাতীয় দল নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না। এটা দুঃখজনক। ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হতো আরো, সেটা তারা করতে পারেনি। স্পিনাররা ভালো করেছে। দলটা কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই ছিল। জাতীয় দল এজন্যই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা ব্যর্থ।’
ম্যাচের আগের দিন এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরেছেন তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসান, রিশাদ হোসেনসহ তিন জন ক্রিকেটার। যার প্রভাব পড়েছে আজ দুই ব্যাটারের পারফরম্যান্সে। সাইফ-হৃদয় দুইজন ব্যর্থ হয়েছেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তারা আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়ছেন। বিসিবির এক পরিচালক বললেন, ‘আমরা জেনেছি এমনটা। তবে খেলা চলাকালে এমনটা ঠিক না। এশিয়ান গেমসে যে লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিলাম সেটা সফল হলো না।’

বাংলাধারা/ডেস্ক

মন্তব্য করুন