প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৪৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলাটিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তাসমিরুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মোহাম্মদ অলি মিয়াসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর তাসমিরুল ইসলাম বলেন, মামলাটিতে বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী তারিখের জন্য ১৫ দিনের সময় প্রয়োজন।
পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের এ বিষয়ে কোনো আপত্তি আছে কি না জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তাদের পক্ষ থেকে আপত্তি না থাকায় আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে গত ২০ আগস্ট এ মামলায় ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শিক্ষার্থী রাতুল হাসান।
এদিকে বুধবার সকালে মামলার দুই আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম।
মামলার অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২৮ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, রামপুরায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরাও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব ও সহায়তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। বর্তমানে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন