প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৬:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পরশুরাম পৌরসভার, ৮ নং ওয়ার্ড গুথুমা চৌধুরী বাজার অবস্থিত, নোয়া বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রায় এক যুগ বন্ধ রয়েছে,এ যেন এক ভুতুড়ে বাড়ি, ফলে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সেবা প্রত্যাশী প্রায় কয়েক গ্রামের মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন,
কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটের কারণে অর্ধশত বছরের প্রাচীন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের আগে পরশুরাম পৌরএলাকার উত্তর গুথুমা ৮ নং ওয়ার্ডে গুথুমা চৌধুরী বাজার অবস্থিত নোয়াপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু হয়। আশির দশকে, স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে, উত্তর গুথুমা চৌধুরী বাজারে অবস্থিত গুথুমা কেবিএ আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্থানান্তর করা হয়। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে সেবা নিতে আসেন উত্তর গুথুমা,দক্ষিণ গুথুমা, বাগমারা, বাসপদুয়া, বেড়াবাড়িয়া, নরণিয়া, মুন্সির খিল, জমিয়ারগাও, কেতরাঙ্গা সহ প্রায় দশ গ্রামের মানুষ। গ্রামীন এ প্রান্তিক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, টিকা দান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ও পরামর্শের জন্য প্রধান ভরসা ছিল এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জানান, নোয়া বাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পাকিস্তান আমলে তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে জনবল সংকটের কারণে ২০২০ সালে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও কোথাও ভবনের অংশ ভেঙ্গে গেছে, দরজা জানালা মরিচা ধরেছে, উপরে দেয়ালের ফলেস্তারা খসে গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ বেয়ে ভেতরে পানি পড়ছে, ভবনের চারপাশের জায়গা দখল করে নিয়েছে আগাছা, ভিতরে সরকারি চিকিৎসা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে মূল্যবান ওষুধ।এটি যেন এক ভুতুড়ে বাড়ি পরিণত হয়েছে। আশেপাশে রাত হলে নেমে আসে নেশাখোর ও মাদকের আড্ডাখানা, দেখার যেন কেউ নেই?
২০১৫ সালে স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয়তা সংস্কার জানিয়ে চিঠি দেন তৎকালীন সিভিল সার্জন, এরপর প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় চিঠির উত্তর মেলেনি,
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন যাবত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় আশেপাশে মানুষের চরম ভোগান্তি, স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশেপাশে কোন সরকারি হাসপাতাল বা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র নেই, ফলে নারী ও শিশুসহ চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব নোয়া বাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কার করে, চিকিৎসা সেবা চালু করলে উপকৃত হবে, নারী ও শিশু সহ প্রায় দশ গ্রামের মানুষ।
বাংলাধারা/এম,এ,করিম ভুঁইয়া,
মন্তব্য করুন