প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলন বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় এবং এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়। ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে এসব তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবোধ জোরদারে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছর আরও আটটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের সব বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংসদে সরকারি চাকরির বর্তমান জনবল পরিস্থিতির চিত্রও তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। এর বিপরীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি।
তিনি আরও জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩৭৮ জন। যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে যেখানে ৩ বছর ৭ মাস সময় লেগেছিল, সেখানে ৪৫তম বিসিএসে সময় লাগে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল এক বছরের মধ্যেই প্রকাশ করা।
তিনি আরও জানান, সরকারি জনবলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করছে। এ ক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন