প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১০:৪৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। গত বছরের এই দিনে মুহূর্তেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা শিক্ষাঙ্গন পরিণত হয়েছিল আগুন, ধোঁয়া ও আর্তনাদের এক বিভীষিকাময় জনপদে। দুর্ঘটনায় পাইলট, এক শিক্ষিকা ও ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন নিহত হন।
মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং কর্মচারীদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসা চলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের শরীর ও মনে এখনো রয়ে গেছে সেই দিনের ক্ষতচিহ্ন।
দুর্ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাসের তদন্ত শেষে ১৫০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বাইরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়নি। ভবনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জরুরি সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় বলে তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্ত দীর্ঘ ৯৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসাকালে তার ৩৬টি অস্ত্রোপচার ও আটবার স্কিন গ্রাফটিং করা হয়। এছাড়া আগুনে পুড়ে পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়া পাঁচজনের মরদেহ পরে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
ট্র্যাজেডির প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সোমবার সব শাখায় দোয়া মাহফিল, কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ট্র্যাজেডির দিনটি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া মাহফিল এবং বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টা ও বিকেল ৩টায় দুই পর্বে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার, আহত শিক্ষার্থী ও তাদের স্বজনদের কাছে ২১ জুলাই আজও এক বেদনাবিধুর দিন। সেই কালো দুপুরের স্মৃতি এখনও তাদের তাড়া করে ফেরে।
বাংলাধারা/শারমিন
মন্তব্য করুন