প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১১:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো নিরক্ষর রয়েছে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার বাইরে। আর নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। বিসিএসের তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার কোটি বলে জানিয়েছে।
সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করতে পারার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার আওতায় ধরা হয়।
এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে বিপুল এই জনগোষ্ঠী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদরাও বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সাক্ষরতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ (লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপেরিটি)।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
এছাড়া, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন