বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্টার্কের সামনে ফের ব্যর্থ লিটন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ‘থ্রি জিরোস’

ছবি: সংগৃহীত

ইনজুরি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ফিরেছিলেন লিটন দাস। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের সিরিজটা মোটেও স্মরণীয় হচ্ছে না বাংলাদেশের এই ব্যাটারের জন্য। দুই টেস্টে তিন ইনিংস ব্যাট করে প্রতিবারই শূন্য রানে ফিরেছেন তিনি। আর তিনবারই তার উইকেটের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক।

পায়ের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন না লিটন। পরে দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে মাঠে ফিরে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেননি তিনি।

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২ বল খেলে স্টার্কের বলে আউট হন লিটন। এরপর ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র পাঁচ বল মোকাবিলা করে একই বোলারের শিকার হন। তৃতীয় ইনিংসেও গল্পের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ২৩তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। প্রথম বল থেকেই স্টার্কের গতির সামনে অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। প্রথম নয়টি বল কোনোভাবে সামলে নিলেও দশম বলে আর পারেননি। স্টার্কের বলে তৃতীয় স্লিপে বেউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন।

এর আগে ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪৬ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করে স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শান্তর বিদায়ের পর মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন। তবে সেই জুটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৯ রান। শান্ত ২৩ ও মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেন স্টার্ক। প্রথম দুই ওভারে মাত্র পাঁচ রান সংগ্রহ করা বাংলাদেশকে তৃতীয় ওভারে আঘাত করেন এই বাঁহাতি পেসার। প্রথমে সাদমান ইসলামকে এক রানে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান তিনি। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক।

মাত্র পাঁচ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শান্ত। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তানজিদ হাসান তামিমকে হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারি লাইনের কাছে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। ৩৪ বলে ৯ রান করেন তিনি।

ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ এরপর টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন। এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি এই ওপেনার।

এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে তিনি সাত উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৪৮ রান খরচ করে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বল হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন শরিফুল।

দ্বিতীয় দিন অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। দিনের অষ্টম ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। বাংলাদেশের এলবিডব্লিউ আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে আঘাত করলে রিভিউয়ে সফল হয় সফরকারীরা। ১০৫ বলে ১০টি চার ও ৬৭ রান করে থামেন গ্রিন।

পরে নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড আরও বাড়ান। লায়ন ৬২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল ইসলাম।

তবে বল হাতে বাংলাদেশের লড়াইয়ের মাঝেও ব্যাটিংয়ে লিটনের ব্যর্থতা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর তিন ইনিংসে তিন শূন্য, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে এখন পর্যন্ত লিটনের ব্যাট যেন পুরোপুরিই নীরব।

বাংলাধারা/শারমিন

 

মন্তব্য করুন