বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৭:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ভাষণ নিয়ে ভারত: সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার মধ্যে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, এ আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে ব্যক্ত হওয়া কোনো মতামতের দায় বা সমর্থন ভারত সরকারের নয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থান তুলে ধরেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার যে মতবিনিময় সভার কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি ওই ফোরামে যে মতামতই প্রকাশ করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করে না বা তা সমর্থনও করে না।

জয়সওয়াল আরও বলেন, নয়াদিল্লিভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেটি ভারতের নজরে রয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।

গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখানে একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে তার ভাষণ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে। ঢাকার আশঙ্কা, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা ইতিবাচক সম্পর্কের ধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এদিকে একই ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

তিনি বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অতিথি আমন্ত্রণের যে প্রচলিত রীতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের নেতাদের কাছেও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, আমন্ত্রণপত্রটি পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালে বিমসটেকের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় এ আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এএনআই

 

বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন