প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আমার স্বামীর মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন রাজধানীর রামপুরায় নিহত আমির হোসেনের স্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর আন্দোলনে যোগ দেন আমির হোসেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে তিনি রাজধানীর রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে পৌঁছালে একটি গুলি তার মাথার পেছন দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আমিরের স্ত্রী। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
আমির হোসেনের স্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন আমার স্বামী। নামাজের পর তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসান নামে একজন আমার বাড়িওয়ালাকে ফোন করেন। এ সময় ফোনে আমার স্বামী রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে গুলি খেয়েছেন বলে জানান তিনি। এরপর তাকে দেখতে রামপুরায় বেটার লাইফ হাসপাতালের উদ্দেশে বের হন আমার বাবা ও ভাই। তবে এর আগেই এলাকার লোকজন মিলে আমার স্বামীকে বাসায় নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়কেই তিনি মারা গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আমার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। একটি গুলি তার মাথার পেছন দিক দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে গেছে বলে শুনেছি। সেই দিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে তাকে গুলি করে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। এর মধ্যে ছিলেন বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত। পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও রাশেদুলও রয়েছেন। আমি আমার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাই।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।
পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
বাংলাধারা/ডেস্ক
মন্তব্য করুন