বাংলাধারা রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৭:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মৌসুমের শেষভাগে চড়া রাজশাহীর আম, আম্রপালির মণ ৩ হাজার ৫০০ টাকা

ছবি: বাংলাধারা

 

মৌসুমের শেষভাগে এসে রাজশাহীর আমের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাগানে আমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের আমের দাম মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম আম্রপালি জাতের, যার মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। একই সঙ্গে বেড়েছে ফজলি ও বারি আম-৪-এর দামও।

শনিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের শেষ সময়ে বাজারে মূলত ফজলি, আম্রপালি, বারি আম-৪ ও আশ্বিনা জাতের আমের বেচাকেনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ রয়েছে ফজলি আমের। তবে স্বাদ ও চাহিদার কারণে সর্বোচ্চ দাম মিলছে আম্রপালির।

হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে আকারভেদে আম্রপালি আমের মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, বারি আম-৪ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে। এক সপ্তাহ আগেও আম্রপালির মণ ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে।

আম ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, মৌসুম প্রায় শেষ। দিন যত যাবে, বাজারে আমের সরবরাহ আরও কমবে এবং দাম বাড়বে। এখন মূলত আম্রপালি, ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আমই বাজারে রয়েছে। এগুলো শেষ হলেই চলতি মৌসুমের আম বেচাকেনা শেষ হবে।

আরেক ব্যবসায়ী কাউসার আলী বলেন, অধিকাংশ বাগান থেকেই আম সংগ্রহ শেষ হয়েছে। যেসব বাগানে এখনও ফজলি, আশ্বিনা কিংবা কিছু আম্রপালি রয়েছে, সেগুলোই বাজারে আসছে। তুলনামূলক কম সরবরাহ এবং ভালো স্বাদের কারণে আম্রপালির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি।

বানেশ্বরের আড়তদার সুমন জানান, মৌসুমের শেষ দিকে এসে আম্রপালির দাম সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে এ আম বিক্রি হচ্ছে। ফজলির দামও আগের তুলনায় বেড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় উঠেছে।

ক্রেতাদেরও পছন্দের তালিকায় রয়েছে আম্রপালি। চট্টগ্রামে পাঠানোর জন্য বানেশ্বর হাট থেকে এক মণ আম্রপালি কিনেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, খিরসাপাত ও গোপালভোগের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। এখন বাজারে থাকা আমের মধ্যে আম্রপালির স্বাদ সবচেয়ে ভালো। ৩ হাজার ৩০০ টাকায় এক মণ কিনেছি। পরিবহন খরচ যোগ করলে মোট খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা হবে।

অন্যদিকে, স্কুলশিক্ষক সাবিনা জান্নাত ২০ কেজি ফজলি ও আশ্বিনা আম কিনেছেন আচার তৈরির জন্য। তিনি বলেন, এ সময়ের পরিপক্ব আম দিয়ে আচার ভালো হয়। ফজলির আচারে হালকা মিষ্টি স্বাদ থাকে, আর আশ্বিনার আচারে টক স্বাদ বেশি পাওয়া যায়।

রাজশাহীর কাটাখালী ও বিনোদপুর বাজারে খুচরা পর্যায়ে আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। সে হিসাবে মণপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকার বেশি। গত ১৫ মে থেকে জেলায় আম সংগ্রহ শুরু হয়। মৌসুমের শুরুতে গুটি আম এবং পরে পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ, রানীপছন্দ, লক্ষণভোগ, হিমসাগর ও খিরসাপাত বাজারে এলেও বর্তমানে শেষ পর্যায়ের ফজলি, আম্রপালি, বারি আম-৪ ও আশ্বিনা আমের বেচাকেনা চলছে।


বাংলাধারা/শারমিন

মন্তব্য করুন